ParentingBD
👦 ছেলে বাচ্চা-8462 • বয়স: 11 বছর 1 মাস স্কুল ও শিক্ষা

সহপাঠীরা ক্ষেপায়, স্কুলে যেতে চায় না

বিস্তারিত বিবরণ

কিছুদিন ধরে ঘুম থেকে উঠে পেটব্যথার অজুহাতে স্কুল এড়াতে চায়। জিজ্ঞাসা করে জানলাম ক্লাসের কয়েকজন তাকে মোটা বলে ক্ষেপায় ও খেলায় নেয় না। শিক্ষকদের জানানো কি ঠিক হবে? ওর আত্মবিশ্বাস কীভাবে ফেরাব?
প্রশ্নটি শেয়ার করুনFacebookWhatsAppXTelegram
💬 1 মন্তব্য 👥 2 একই সমস্যা 👁️ 13 বার দেখা 👍 0 উপকারী 07 Oct 2026

আমারও একই সমস্যা

👥 2 জন
👦 1 👧 1 ৬+ বছর: 2
লগইন করে চিহ্নিত করুন →

💬 মন্তব্য

1

লগইন করে মন্তব্য করুন।

Nishat Laila 🩺 ডাক্তার 08 Oct 2026, 04:03 PM

হ্যাঁ, শিক্ষকদের জানানো উচিত—বিশেষ করে যেহেতু বিষয়টি এখন স্কুলে যেতে না চাওয়া এবং শারীরিক অজুহাতের মতো প্রকাশ পাচ্ছে। এটা শুধু “বাচ্চাদের দুষ্টুমি” হিসেবে এড়িয়ে না গিয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখা ভালো। কীভাবে এগোবেন ১. আগে শিশুকে নিরাপদ বোধ করান বলুন: “তোমাকে মোটা বলে কেউ ক্ষেপালে সেটা তোমার দোষ না। তুমি আমাকে বলেছ—এটা খুব ভালো করেছ। আমি তোমার পাশে আছি।” “ওদের কথায় কান দিও না” বা “তুমি তো মোটাই না”—এ ধরনের কথা না বলাই ভালো। এতে তার অনুভূতিটা ছোট হয়ে যেতে পারে। ২. শিক্ষককে শান্তভাবে জানান ক্লাস শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে বলুন—কোন শিশুরা কী বলছে, কখন হচ্ছে, খেলায় কীভাবে বাদ দিচ্ছে এবং এর কারণে সে স্কুল এড়াতে চাইছে। শিক্ষককে অনুরোধ করুন যেন বিষয়টি শিশুটিকে আলাদা করে অপমান না করে, বরং ক্লাসের পরিবেশ ও খেলাধুলায় অন্তর্ভুক্তির দিকে নজর দেন। ৩. আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনুন তার শরীর নিয়ে নয়, তার দক্ষতা, চেষ্টা ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রশংসা করুন। যেমন: “তুমি খুব মন দিয়ে কাজটা করেছ।” “তুমি বন্ধুকে সাহায্য করেছ—এটা খুব সুন্দর।” “তুমি যে হাল ছাড়োনি, সেটা আমার ভালো লেগেছে।” স্কুলের বাইরেও এমন কোনো খেলাধুলা/শখে তাকে যুক্ত করুন যেখানে সে আনন্দ পায় এবং সফল হওয়ার সুযোগ পায়। ৪. ওজনকে সমস্যা হিসেবে উপস্থাপন করবেন না শিশুকে ডায়েট করানো, বারবার ওজন মাপা বা “মোটা/পাতলা” নিয়ে আলোচনা করা এ মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস আরও কমিয়ে দিতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত খেলাধুলাকে পরিবারের সবার স্বাভাবিক অভ্যাস হিসেবে রাখুন। ৫. কয়েক সপ্তাহ নজরে রাখুন পেটব্যথা সত্যিই মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, কিন্তু বারবার পেটব্যথা হলে শারীরিক কারণও বাদ দেওয়া দরকার। পাশাপাশি লক্ষ্য করুন—ঘুম, খাওয়া, মন-মেজাজ, স্কুলে যাওয়ার ভয়, একা হয়ে থাকা বা কান্না বাড়ছে কি না। যদি সে বলে “স্কুলে যেতে ভয় লাগে”, “কেউ আমাকে মারে/হুমকি দেয়”, “আমি কাউকে বলতে পারি না”, অথবা খুব বেশি ভেঙে পড়ে/নিজেকে নিয়ে খারাপ কথা বলতে শুরু করে, তাহলে দ্রুত স্কুলের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও প্রয়োজনে শিশু-মনোবিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা: ওকে বোঝাতে হবে যে তার শরীরের আকৃতি তার মূল্য নির্ধারণ করে না। একই সঙ্গে স্কুলের বড়দেরও দায়িত্ব নিতে হবে—শুধু শিশুকে “শক্ত হতে” বলা যথেষ্ট নয়।